বিশ্বজুড়ে কে-পপ জগতে একসময় বিটিএসের একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল। বিশেষ করে কোভিড মহামারির সময় ‘পারমিশন টু ড্যান্স’ গানটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে কোটি মানুষের আশার আলো হয়ে উঠেছিল। এখনো তাদের জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েনি; ৮ জুন প্রকাশিত হিসাবে, স্পটিফাইয়ে বিটিএসের মাসিক নতুন শ্রোতার সংখ্যা বেড়েছে ৫১ হাজার ১৭৬। তবে এ অর্জনে কিছুটা ধূসর রেখা টেনে দিয়েছে নতুন প্রজন্মের গ্রুপগুলোর উত্থান। বিশ্বমঞ্চে ঝড় তুলছে সেভেনটিন, স্ট্রে কিডস, নিউজিনস, লে সেরাফিম, আইভ, জিরোবেজওয়ান, বয়নেক্সটডোর, বেবিমন্সটার, আইলিট, রাইজ। একই সঙ্গে বিটিএস–ভক্তদের মধ্যেও এখন বিভাজন তৈরি হয়েছে।



রাজনৈতিক মতাদর্শ, সদস্যদের নিয়ে আলাদা মাতামাতি ও এজেন্সি নিয়ে অসন্তোষ—এসব নিয়ে ‘আর্মি’-দের মধ্যেই একধরনের দ্বন্দ্ব চলছে। গত সপ্তাহেই সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে এক দিনের ব্যবধানে বাড়ি ফিরেছেন চার বিটিএস তারকা আরএম, ভি, জিমিন ও জাংকুক। সুগা বাদে বাকিরাও ফিরছেন। তবে বিটিএস ফিরলেও নতুন বাস্তাবতায় ভক্তদের মধ্যে তাঁদের গ্রহণযোগ্যতা আগের মতো থাকবে কি?
বিটিএসের মূল প্রতিষ্ঠান হাইব করপোরেশনের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ এখন নিয়মিত ঘটনা। বিশেষ করে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত এবং ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে শিল্পী ও এজেন্সির অবস্থান নিয়ে ভক্তদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করেছে। হাইব যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী স্কুটার ব্রাউনের কারণে অনেক ভক্ত হাইব ও এর শিল্পীদের বর্জনের আহ্বান জানান। কেউ কেউ তো বলেই ফেলেছেন, বিটিএস যদি হাইব থেকে আলাদা না হয়, তবে তাঁরা আর সমর্থন করবেন না।
অ্যালবাম বিক্রি ও সেভেনটিনের উত্থান
২০২৪ সালে মার্কিন অনলাইন গণমাধ্যম দ্য হলিউড রিপোর্টার ঘোষণা করে, সেভেনটিনই বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় কে-পপ গ্রুপ। এশিয়া সফরের ২৪ শো থেকে তারা আয় করেছে ৯৮ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলার। চলতি বছর বাজারে আসা তাদের ‘হ্যাপি বার্থডে’ অ্যালবামটি প্রথম দিনেই বিক্রি হয় ২২ লাখ কপির বেশি! যদিও এই সময়টায় বিটিএস ছিল না, তবে সেভেনটিনের এই সাফল্য তাদের সঙ্গে সরাসরি তুলনায় এসেছে বারবার। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে তারা টেলর সুইফট, ড্রেক, দ্য উইকেন্ডের মতো তারকাদেরও পেছনে ফেলেছে।
বিটিএস এখনো বিশ্বসংগীতে প্রভাবশালী নাম। তবে সময়ের পরিবর্তনে ভক্তদের মধ্যে টানাপোড়েন বেড়েছে। নতুন শিল্পীর আগমন, রাজনৈতিক মতাদর্শ, একক ক্যারিয়ারে মনোযোগ—সব মিলিয়ে ‘আর্মি’রা এখন আর আগের মতো নেই। এত কিছুর পরও বিটিএসের গল্প যে এখনো শেষ হয়ে যায়নি, তাদেরই সেটা আবার প্রমাণ করতে হবে।
News Source- Indian Express

